রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট: চঞ্চল সাহাঃ
কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়নের ছোট ৫ নং গ্রামের সাবেক ইউ,পি সদস্য মো.আমিনুল ইসলাম ওরফে দিলিপ গাজী (৫৮) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শ্বশুড় আনোয়ার প্যাদা সহ তিন ঘাতককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাদের আটক করা হয়। অপর দুই ঘাতকরা হলো মো.আমজেদ হোসেন (৫০), মো.নিজাম উদ্দিন (৫০) । এদের মধ্যে আমজেদ হোসেন এবং নিজাম বরগুনার অধিবাসী। অপরদিকে, শ্বশুড় আনোয়ার প্যাদা কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় সাবেক ইউ,পি সদস্য মো.আমিনুল ইসলাম ওরফে দিলিপ গাজীর স্ত্রী মোসা.হাবিবা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামীদের বিরুদ্ধে ২২ অক্টোবর কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কলাপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো.আসাদুর রহমান জানান, পায়রাবন্দর এলাকায় শ্বশুড়-জামাতা একই সাথে জমি ক্রয় করে। এ জমি অধিগ্রহনের টাকা তুলে নেন শ্বশুড় আনোয়ার প্যাদা। এ নিয়ে শ্বশুড় আনোয়ার প্যাদার সাথে জামাতা আমিনুল ইসলাম ওরফে দিলিপ গাজীর মনোমালিন্য চলে আসছিল। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আনোয়ার প্যাদা জামাতা হত্যার পরিকল্পনা করে আসছে। পুলিশ আমিনুল ইসলামের লাশ উদ্ধারের সময় তার গলায় এবং নাকে আঘাতের চিহ্ন সনাক্ত করেছে। ঘটনার সময় স্ত্রী হাবিবা বেগম সহ তার সন্তানরা কেউই বাড়ীতে ছিলেন না। ফলে ঘটনার সাথে জড়িতরা পরিকল্পিত ভাবে এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে।
এদিকে লালুয়া ইউনিয়নের দশকানি গ্রামের মো.সাইফুল ইসলাম জানান, আমিনুল ইসলাম দিলিপ গাজী ইউ,পি সদস্য থাকাকালীন সরকারের বরাদ্দকৃত চাল কেউ নিতে না পারলে তার বাড়ীতে নিজের মাথায় বহন করে পৌঁছে দিতেন। সর্বোপরী তাঁর ভাল কাজের কারনে তিনি এলাকায় ছিলেন জনপ্রিয়। এলাকাবাসী অনেকের এমনও মন্তব্য শোনা গেছে, সকল মানুষের এলাকায় কম-বেশী শত্রু রয়েছে,কিন্তু আমিনুলের কোন শত্রুও ছিল না। পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এলাকাবাসী তাকে প্রার্থীর জন্য চেষ্টা করেছেন তবুও তিনি রাজী হননি। তবে তাঁর এ হত্যাকান্ডটি এলাকার মানুষ মেনে নিতে পারেনি। তারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
উল্লেখ, গত ২১ অক্টোবর সাবেক এ ইউ,পি সদস্য নিজ বাড়ীতে শ্বাসরোধে এ হত্যাকান্ডের শিকার হন বলে এলাকাবাসীর অনেকের ধারনা।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply